বেসিক অরগানাইজেশন নেটওয়ার্ক ফর ডেভে: এ্যান্ড হিউমেনিটেরিয়েল এইড ফর নেশন (বন্ধন), পাঁচবিবি, জয়পুরহাট

ভুমিকা:

মানুষ সামাজিক প্রাণী, তারা একত্রে বাস করতে পছন্দ করে। একত্রে বাস করার প্রথম ও প্রধান শর্ত নিজেকে কিছু স্বাধীনতা ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে অন্যের স্বাচ্ছন্দ জীবনযাপনের সহযোগীতা করা। প্রকৃতিগত ভাবেই যুগযুগ ধরে মানুষ তার নিজের মধ্যে এই ত্যাগের বীজ সানন্দে লালন করছে। মানুষের কল্যাণের জন্য মানুষের চেষ্টা সর্বৎকৃষ্ট উদাহরণ বিভিন্ন সময়ে মহামানবের আবির্ভাব। মহামানবগণ নিজেদের ভিতরের ত্যাগের বীজকে মহিরুহুকরেন এবং সমাজের সকলকে পরস্পরের মঙ্গলের জন্য উৎসাহিত করেন।

যুদ্ধ মানুষ ও সভ্যতাকে ধ্বংস করে। ধ্বংস থেকে মানুষ আবার পরস্পরের চেষ্টায় সুসংগঠিত হয়ে মানবতা ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে চলে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরে উন্নত বিশ্বের নাগরিকরা তাদের সরকারকে চাপ দিতে থাকে, তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত ও সবদিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির উন্নয়ণে তাদেরই প্রদত্ত ট্যাক্স এর একটা অংশ মানবকল্যাণে ব্যয় করার জন্য। অন্য দিকে নিজেরা চেষ্টা করে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও চার্চের মাধ্যমে অর্থসংগ্রহ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির সরকারের উন্নয়নের চেষ্টা পাশে নিজেদের সংগৃহিত টাকা মানুষের উন্নয়নের কাজে লাগাতে। মুলত তখন থেকেই এনজিও(NGO) প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে শুরু করে। যদিও এরপূর্বেও রামকৃষ্ণ মিশন জাতীয় কল্যাণ মূলক কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মরত ছিল।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আমাদের দেশ যখন ধ্বংশস্তুপে পরিণত সেসময় কিছু হৃদয়বান মানুষ তাদের সীমিত অর্থ ও লোকবল নিয়ে ত্রাণ ও পূণর্বাসনের কার্যক্রম শুরু করে। তাদের এ চেষ্টা বিশ্ববাসীকে আকৃষ্ট করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পূণর্বাসনে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। বাংলাদেশে ও দেশীয় এনজিওর (NGO) তখন থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করতে শুরু করে।



বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাট এর ভারত সংলগ্ন উপজেলা পাঁচবিবির কিছু উদ্যমী ও মানবতাবাদী তরুন সঞ্চয়ে সমৃদ্ধি আনেএই শ্লোগানকে সামনে রেখে ১৯৯৯ সালে মার্চ মাসে বন্ধননামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু করে। জন্মলগ্ন থেকে এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় বন্ধনএর ভিক্তি শক্তিশালী হতে শুরু করে। বন্ধন এর নিজস্ব তহবিলে সামাজিক উন্নয়ণের যে কর্মসুচী গুলো পরিচালনা হচ্ছে তা মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে উদাহরণস্বরুপস্বেচ্ছায় রক্ত দান কর্মসূচী

অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বন্ধনেরক্ষুদ্রঋণ” কর্মসুচীতে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বেসিক ব্যাংক বগুড়া শাখা ও এসবিএসি ব্যাংক বগুড়া শাখা। বন্ধনের বর্তমানে সাধারন পরিষদের সদস্য সংখ্যা ২৬ জন,   নির্বাহী পরিষদ ০৭ সদস্য বিশিষ্ট এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ০৫ জন।

দেশের মানুষের জন্য বন্ধননিশ্চিত নিরাপদ ভবিষ্যৎ কে আলিঙ্গঁন করার লক্ষ্য নিয়ে দৃঢ় ও নির্ভিক পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে।

সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋন কর্মসূচী :

সংস্থার শুরু থেকে অর্থাৎ ১৯৯৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সদস্য সংখ্যা ৫৭৩৭ জন, সঞ্চয়ের পরিমান ১৪৮০৫৫৯৬২/- টাকা এবং ঋণীর সংখ্যা ৩৭৯৮ জন, ঋণের স্থিতির পরিমান ২৬৬১৬৭০৯৯/- টাকা, আদায়ের হার প্রায় ৯৯%। এই কর্মসূচী পরিচালনায় সহযোগিতা করছে বেসিক ব্যাংক বগুড়া শাখা ও এসবিএসি ব্যাংক বগুড়া শাখা।  

বায়োগ্যাস ও জৈবসার কর্মসূচী :

ইডকল এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় আমরা এই কর্মসূচীটি পরিচালনা করছি। পরিবেশ বান্ধব জ্বালানী সাশ্রয় এই চুলার মূল জ্বালানী- মূলত গোবর ও মুরগীর বিষ্ঠাযার দ্বারা তৈরী হওয়া গ্যাসে চমৎকার ভাবে এই চুলা জ্বলে। কোন গ্রাহক এই প্লান্ট স্থাপন করলে ইডকল বন্ধনের মাধ্যমে গ্রাহককে ৯০০০/-টাকা অনুদান প্রদান করে। এ পর্যন্ত আমারা ৩৪৭ টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরী করেছি এবং এ থেকে সার্ভিস চার্জ বাবদ প্রায় ১৬০০০০০/-টাকা গ্রহণ করেছি। এই প্রকল্পে ইডকলের ঋণসহায়তায় আমরা ১৩৫ জন গ্রাহককে ঋণ দিয়েছি ২১০০০০০/-টাকা। প্রশিক্ষনের জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০৩০০০/-টাকা।

বন্ধনের চলমান কর্মসূচী সমূহ:

০১. সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋন কর্মসূচী :

সংস্থার শুরু থেকে অর্থাৎ ১৯৯৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সদস্য সংখ্যা ৫৭৩৭ জন, সঞ্চয়ের পরিমান ১৪৮০৫৫৯৬২/- টাকা এবং ঋণীর সংখ্যা ৩৭৯৮ জন, ঋণের স্থিতির পরিমান ২৬৬১৬৭০৯৯/- টাকা, আদায়ের হার প্রায় ৯৯%। এই কর্মসূচী পরিচালনায় সহযোগিতা করছে বেসিক ব্যাংক বগুড়া শাখা ও এসবিএসি ব্যাংক বগুড়া শাখা।  

০২. বায়োগ্যাস ও জৈবসার কর্মসূচী :

ইডকল এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় আমরা এই কর্মসূচীটি পরিচালনা করছি। পরিবেশ বান্ধব জ্বালানী সাশ্রয় এই চুলার মূল জ্বালানী- মূলত গোবর ও মুরগীর বিষ্ঠাযার দ্বারা তৈরী হওয়া গ্যাসে চমৎকার ভাবে এই চুলা জ্বলে। কোন গ্রাহক এই প্লান্ট স্থাপন করলে ইডকল বন্ধনের মাধ্যমে গ্রাহককে ৯০০০/-টাকা অনুদান প্রদান করে। এ পর্যন্ত আমারা ৩৪৭ টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরী করেছি এবং এ থেকে সার্ভিস চার্জ বাবদ প্রায় ১৬০০০০০/-টাকা গ্রহণ করেছি। এই প্রকল্পে ইডকলের ঋণসহায়তায় আমরা ১৩৫ জন গ্রাহককে ঋণ দিয়েছি ২১০০০০০/-টাকা। প্রশিক্ষনের জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০৩০০০/-টাকা।  

০৩. স্বাস্থ্যসেবা:

২০০৬ সাল থেকে সংস্থার নিজস্ব তহবিলে সদস্যদের এবং এলাকার দুঃস্থ মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য এই কর্মসূচী পরিচালনা করা শুরু হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় পাঁচবিবি উপজেলার পৌরসভা সহ ৪(চার) টি ইউনিয়নে ৩৬ (ছত্রিশ) টি ওয়ার্ডে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচী পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭০০ পরিবার এই কর্মসূচীর সুফল পেয়েছে। এ বছর নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫০০০/-টাকা। এ ছাড়া অত্র এলাকায় যে কোন মূমূর্ষ ব্যক্তির রক্তের প্রয়োজন হলে বন্ধনের ১৩০ (একশত ত্রিশ) জন ডোনারের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্ত দান করে সহায়তা করা হয়। তাছাড়া যে কোন ব্যক্তি রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করতে চাইলে ও প্রয়োজনে রক্ত দান করার আগ্রহ প্রকাশ করিলে তাহাদের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার ফি বন্ধন বহন করে। এই কর্মসূচীতে প্রায় ৫২৯ ব্যাগ রক্ত দান করা হয়েছে। এ বছর নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ হয়েছে প্রায় ২১০০০/-টাকা।  

০৪. স্যানিটেশন সেবা:

২০০৬ সাল থেকে সংস্থার নিজস্ব তহবিলে এই কর্মসূচী পরিচালিত হচ্ছে। সংস্থার সদস্য বা অত্র এলাকার যেকোন পরিবার বন্ধন থেকে সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে স্যানিটেশন সামগ্রী ক্রয় করতে পারেন যে ঋণ ১২ থেকে ১৮ মাসের কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারেন। সংস্থার কর্ম এলাকায় সমিতি গুলোতে সাপ্তাহিক মিটিং এস্যানিটেশন এর উপর আলোচনা করা হয়। এই কর্মসূচীর সুফল ভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৪০০ পরিবার।  

০৫বনায়ন ও নার্সারী কর্মসূচী:

বর্তমান পরিবেশ বিপর্যয়ের এক ক্রাস্তিকাল। সারাদেশে যে পরিমাণ বন থাকা দরকার তার অর্ধেকও নেই। অবাধ গাছ কাটা হচ্ছে আর উজার হচ্ছে বনভুমি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা না হওয়ায় নানা ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। সেই বিপর্যয় থেকে উদ্ধারের অংশিদার হতে বন্ধন তার সীমিত অর্থ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বন্ধন তার নিজস্ব নার্সারী থেকে কর্ম এলাকায় সামাজিক বনায়নের জন্য বিনামুল্যে ও স্বল্পমুল্যে গাছের চারা বিতরণ করেছে। বন্ধনের প্রচেষ্টা জাতীয় পর্যায়ে মানব সম্পদ উন্নয়ণ এবং সংস্থাকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, রীতি-নীতির উন্নয়ণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধি।বন্ধন নিজস্ব অর্থায়নে ও দাতাদের সহযোগিতায় দক্ষ কর্মী নিয়ে সফলতার সাথে তার লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
কার্যক্রম: বন্ধন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বায়োগ্যাস ও জৈবসার কর্মসূচী, বনায়ন ও নার্সারী,  স্যানিটেশন সেবা ও ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে।
নিবন্ধন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষঃ
(ক) সমাজ সেবা অধিদপ্তর: নিবন্ধন নং-২২৫/ জয় তারিখ ০৩/০২/২০০০ইং।
(খ) মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ): সনদ নং-০১১৩২-০০২২৭-০০০৮০ তারিখ ২৯/১১/০৭ইং।
(গ) এনজিও বিষয়ক ব্যুরো: নিবন্ধন নং-২৫৩৮ তারিখ ০২/০২/২০১০ইং।
           

পরিকল্পনা:

সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে দেশের সম্পদ ব্যবহার করে সমস্যাসমাধানের চেষ্টা করা।

কর্মকর্তার প্রোফাইল

 
ফিল্ডের নাম ও সংক্ষিপ্ত বর্ণণা
১। নাম: শেখ শেফায়েতুল ইসলাম।
২। জাতীয় পরিচয় পত্রনং-৩৮২৭৪০৫৪৯৭৯৩০।
৩। পদবী:নির্বাহী পরিচালক।
৪। অফিসের ঠিকানা:বন্ধন, মাতাইশমঞ্জিল, পাঁচবিবি, জেলাঃ-জয়পুরহাট।
৫। টেলিফোন নং- ০৫৭২৪-৭৫৩৬২, ০৫৭২৪-৭৫১৩৩।
৬। মোবাইল নং- ০১৭১২-১৫৮৬০২।
৭। ফ্যাক্স নং- প্রযোজ্য নয়।
৮। ই-মেইল ঠিকানা: bondhan15@gmail.com
৯। যোগদানের তারিখ: ০১/০৭/২০০১ইং।
১০। সর্বশেষ চাকুরী স্থল: বন্ধন, হেডঅফিস, মাতাইশমঞ্জিল, পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।
১১। জন্ম তারিখ:৩১/০৮/১৯৬৮ইং৷
১২। স্থায়ী ঠিকানা: গ্রামঃ-দমদমা, পোঃ-পাঁচবিবি, থানাঃ-পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।
১৩। নিজ জেলা: জয়পুরহাট।
১৪। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা: বি,এপাশ।